বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

পত্রলিপির আজকের আয়োজনে সবাইকে জানাচ্ছি সাদর আমন্ত্রন এবং শুভেচ্ছা। বাংলাদেশকে আপনাদের সামনে তুলে ধরার সংকল্প নিয়ে গড়ে ওঠা পত্রলিপি সেই সংকল্প পূরণ করতে আজকে আপনাদের সামনে হাজির হলো বাংলাদেশ এর উচ্চতর শিক্ষাঙ্গন নিয়ে। সুজলা-সুফলা,শস্য-শ্যামলা এই বাংলার সবুজ কন্যা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আজকের এই আয়োজন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও তার ইতিহাসঃ

বাংলাদেশের কৃষি শিক্ষার অন্যতম ও সর্বোচ্চ শিক্ষাঙ্গন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার নগরী নামে খ্যাত ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত। পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের কোলে সযত্নে বেড়ে ওঠা শিক্ষাঙ্গন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছয়টি অনুষদ নিয়ে দীর্ঘ সময় যাবৎ কৃষি শিক্ষায় তার সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে সম্পন্ন হয়েছে। ১৯৬১ সালে তৎকালীন পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তান ভেটেরিনারি কলেজ নামে যাত্রা শুরু করলেও স্বাধীনতার পর তার নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এটিই বাংলাদেশের সর্বপ্রথম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

1

অণুষদ সমুহ ও ভর্তি ব্যবস্থাঃ

কৃষি,ভেটেরিনারি,মাৎসবিজ্ঞান,পশু পালন,কৃষি প্রকৌশল ও কৃষি অর্থনীতি এই ছয়টি অনুষদে প্রতি বছর ১২০০ এর অধিক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকে। পূর্বে অন্য সকল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এর মতো ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হলেও ২০১৯ সাল হতে দেশের সকল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একত্রিত হয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর নেতৃত্বে ক্লাস্টার পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ ও ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতি বছর বিশ্বমানের গ্রাজুয়েট তৈরি সহ বিশ্বমানের গবেষণা পরিচালনা করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

পরিবেশ পর্যালোচনাঃ

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও পরিবেশ পরিবর্ধনে সক্রিয়ভাবে অবদান রেখে চলা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য লেখার মাধ্যমে খুব কমই পাঠকদের সামনে তুলে ধরা সম্ভব। তবুও কিছু তথ্য না বললেই নয় – এখানে রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বোটানিক্যাল গার্ডেন। যাতে রয়েছে অনেক লুপ্ত প্রজাতির গাছ থেকে শুরু করে কয়েক শত প্রজাতির উদ্ভিদ। বাংলাদেশের একমাত্র কৃষি জাদুঘর এর অবস্থান এখানেই। আয়তনে সর্বোচ্চ পরিমাণ গবেষণা মাঠ,যন্ত্রপাতি ও সুযোগ সুবিধা সম্বলিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে শতভাগ আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন শিক্ষকমণ্ডলী। বৃহৎ আকারের একটি স্টেডিয়াম ও জিমনেশিয়াম রয়েছে ছাত্র-ছাত্রীদের মনোরঞ্জন এবং শারীরিক স্বাস্থ্য বিবেচনায়।একটি হেলথ কেয়ার সেন্টার ও ২ টি এম্বুলেন্স ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত আছে। ছাত্র-শিক্ষক সকলের জন্যে রয়েছে শতভাগ আবাসিক ব্যবস্থা। সেই সাথে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট ‘বিনা’ এর অবস্থান এই বাকৃবি ক্যাম্পাসেই। বাংলদেশে প্রচলিত বিভিন্ন প্রজাতির উচ্চফলনশীল ধানের চারা,পশু চিকিৎসায় নিয়মিত ভ্যাক্সিন,মেডিসিন,উন্নত চাষযোগ্য মাছের জাত,উন্নত মানের ব্রিড,অত্যাধুনিক কৃষি প্রযুক্তি,কৃষি অর্থনীতি উন্নতকরণ প্রক্রিয়া আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে প্রকৃতিকন্যা নামে খ্যাত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সুনামের সহিত পুরো দেশে তার দাপট বজায় রেখে চলছে।

পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর/সেমিস্টারেই আয়োজন করা হয় শিক্ষা সফরের মতো মানসিক বিকাশকারী আয়োজনের।

গবেষণা ব্যবস্থাঃ

বাকৃবি গবেষণার দুটি মূল ধারা পরিচালনা করে – ডিগ্রি গবেষণা এবং প্রকল্প গবেষণা – প্রাক্তন এমএসতে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা থাকেন শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে এবং পিএইচডি সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানকারী গবেষণা প্রকল্পগুলি বিশ্ববিদ্যালয় বা বহিরাগত তহবিল সংস্থাগুলির স্পনসরশিপে পরিচালিত হয়। “হায়ার স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ কমিটি (সি.এ.এস.আর.)” উভয় প্রবাহকে সমন্বয় করার জন্য দায়বদ্ধ।

গবেষণা প্রকল্পগুলির সমন্বয় ও পরিচালনার জন্য, বাকৃবি গবেষণা ব্যবস্থা (BAURES) ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে, (বাউরেস) ৩২২ টি গবেষণা প্রকল্প সম্পন্ন করেছে এবং ১১২ টি চলমান প্রকল্প রয়েছে। চলমান গবেষণা প্রকল্পগুলি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ), যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক বিকাশ বিভাগ (ডিএফআইডি), নরওয়েজিয়ান এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (নোরএডি), আন্তর্জাতিক ফাউন্ডেশন ফর সায়েন্স (আইএফএস) ইত্যাদির দ্বারা অর্থায়ন করে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল (আইএসএসএন 1810-3030) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সিস্টেমের পক্ষ হতে জুন ও ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়। মূল গবেষণা পত্র, পর্যালোচনা নিবন্ধ এখানে প্রকাশিত হয়।

যেভাবে যাবেনঃ                                

১২৫০ একরের এই বিশাল ক্যাম্পাসে প্রায় প্রতিদিনই ঘটে দর্শনার্থীদের আগমন।সবুজে ঘেরা স্নিগ্ধ ক্যম্পাসে আসতে হলে আপনাকে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস অথবা ট্রেন যোগে চলে আসতে হবে ময়ময়নসিংহ শহরে।তারপর অটো বা রিকশা যোগে চলে আসবেন পাটগুদাম ব্রিজ মোড় এলাকায়।এখান থেকে সরাসরি ক্যাম্পাসে যাওয়ার অটো বা রিকশা পেয়ে যাবেন। সর্বোসাকুল্যে ৫০০-১০০০ টাকার মাঝেই আপনি ঘুরে যেতে পারবেন এই সবুজ ক্যাম্পাস।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রতিনিয়ত আয়োজিত হয় শিক্ষাসফর ও পিকনিকের মতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ।  শিক্ষানুরাগীদের আকর্ষণের মূলে থাকা বাকৃবি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় অবর্ণনীয় অবদান রেখে চলেছে প্রতিনিয়ত।

Meet The Amazing Writer

Hayder Sayeb

About Writer: Hayder Sayeb is a current student of Bangladesh Agricultural University. He is an object photographer, like to make documentary videos, he also writes about various things with nice gesture.

Follow the Amazing Writer

This Post Has One Comment

  1. Anonymous

    Excellent!

Leave a Reply