গম্বুজের শহর বাগেরহাট

গম্বুজের শহর বাগেরহাট

পত্রলিপির আঞ্চলিক গৌরবগাথাঁ পর্বে প্রতিদিনের আয়োজনে থাকছে বাংলাদেশে বিভিন্ন জেলা কিংবা অঞ্চলের তাৎপর্যপূর্ণ কিছু তথ্য যা বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে। আমাদের আজকের আয়োজনে থাকছে এমনই একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা বাগেরহাট জেলা।

খুলনা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত বাগেরহাট জেলা একটি দুর্দান্ত ঐতিহাসিক স্থান। বাগেরহাট শহর মসজিদগুলির জন্য বিখ্যাত। হযরত খান জাহান আলী এই শহরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি ছিলেন ন্যায়বিচারের এবং পনেরো শতাব্দীর এক মহান সাধক। তাঁর রাজত্বকালে বাগেরহাট সুন্দরবন বনের একটি অংশ ছিল। তিনি জঙ্গল পরিষ্কার করে বাসযোগ্য করে তোলেন। তিনি এর নাম রেখেছিলেন খলিফাবাদ। তিনি তার প্রশাসন পরিচালনার জন্য অনেক সরকারী ভবন নির্মাণ করেছিলেন। তিনি অনেক মসজিদ এবং খনন ট্যাংকও নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর নির্মিত বিল্ডিংগুলি এখন সব ভেঙে পড়েছে। বাগেরহাট শহরকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

১৯৭৩ সালে ইউনেস্কো এই সম্মাননা প্রদান করে। দুটি ঐতিহাসিক নদী ব্রহ্মপুত্র নদ এবং গঙ্গার সঙ্গমে অবস্থিত, বাগেরঘাট জেলায় মসজিদ সংখ্যার উপস্থিতির জন্য মসজিদ শহর হিসাবেও পরিচিত। পঞ্চদশ শতাব্দীতে ইট দিয়ে নির্মিত মসজিদের গম্বুজযুক্ত কাঠামোটিকে একটি স্থাপত্য বিস্ময় হিসাবে বিবেচনা করা হয়।১৯৮৮ সালে বাগেরহাট জেলা হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল। জেলাটি আজ অঞ্চল ভিত্তিতে বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম জেলা।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায়ও পিছিয়ে নেই এই ঐতিহ্যবাহী শহর। বাংলাদেশের দুটি প্রধান বন্দরগুলির মধ্যে একটি, মংলার বন্দরটি এখানে। বাগেরহাটের দুটি উপজেলা রামপাল ও ফকিরহাট চিংড়ির বিশাল উৎপাদন ও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের কারণে বাংলাদেশের কুয়েত হিসাবে পরিচিত।

৯ টি উপজেলা, ৭৭টি ইউনিয়ন পরিষদ, ১০৩৩ টি গ্রাম, ৬৮৭ মৌজা, ৩ পৌরসভা, ২৭টি ওয়ার্ড এবং ৫৬টি মহল্লায় বিভক্ত বাগেরহাট জেলা যেটি কিনা চতুর্থ বৃহত্তম।

বাগেরহাট জেলাতে ৭৮১৫ টি মসজিদ, ২৩৮ টি মন্দির, ১৭ টি গীর্জা এবং সাতটি সমাধি রয়েছে। ষাট গম্বুজ মসজিদ বা শত গম্বুজ মসজিদ বিখ্যাত মসজিদ। খান জাহান আলীর সমাধিটি বিখ্যাত সমাধিসৌধ।বাগেরহাট বাংলাদেশ যে অসাম্প্রদায়িক একটি দেশ তারই রুপম।

বাগেরহাট জেলা শহর এর ঐতিহ্যবাহী ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার মধ্যে মসজিদ শহরখ্যাত বাগেরহাট ষাট গম্বুজ মসজিদ, সোনা মসজিদ, খান জাহান আলীর সমাধি কমপ্লেক্স, খান জাহান আলীর ট্যাংক, মংলা সুন্দরবন পোর্ট, ঘোড়া দিঘি, কোদলা মঠ বা আয়ুধা মঠ, দুর্গাপুর শিব মঠ, সুন্দরবন রিসর্ট বারাকপুর, চন্দ্রমহল রঞ্জিতপুর, দোহাজারি শিববাড়ি ফকিরহাট , রামকৃষ্ণ আশ্রম।

বাগেরহাট জেলার স্থাপনাসমুহ শতবছরের তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের ভৌগলিক তাৎপর্যবাহী এই শহর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।বাগেরহাট জেলা বাংলাদেশের গৌরবগাঁথার গুরুত্বপূর্ণ এক অংশ। 

অনুপ্রানিত – 

    • Wikipedia
    • Google

ছবিসূত্র – Google

Meet The Amazing Writer

Nurul Momen Chowdhury

About Writer: As the world is getting developed day by day, technology & the ways of learning are also changing. Keeping that in mind, Nurul Momen Chowdhury would like to contribute to the society by developing a better platform that will help the creative minds & scholar people.

Follow the Amazing Writer

Leave a Reply